
মুম্বাই, আগস্ট ১৯: মহারাষ্ট্রে জবরদস্তি ধর্মান্তরণের বিষয়ক প্রস্তাবিত আইনের বিরুদ্ধে ‘তাহরিক মুসলিম শাব্বান’ এর সভাপতি মৌলানা মোশতাক মালিক আইনটির বিধিগুলোর সমালোচনা করেছেন। তিনি এই আইনের সম্ভাব্য অপব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। মৌলানা বলেছেন, ধর্মান্তরণ একটি ব্যক্তির নিজস্ব চিন্তা, মতামত এবং বিশ্বাসের ফলস্বরূপ ঘটে। এতে কোনো ধরনের জবরদস্তি হওয়া উচিত নয়।
মৌলানা মোশতাক মালিক আরও বলেন, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে বিবাহ বা ধর্মান্তরণকে ‘লভ জিহাদ’ এর সাথে যুক্ত করা উচিত নয়। তিনি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে এই ধরনের আইনগুলোর বিভিন্ন রূপের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি ধর্মান্তরণের পর সন্তানদের ধর্মীয় পরিচয় এবং সম্পত্তির উত্তরাধিকারের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, যদি কোনো ক্ষেত্রে জবরদস্তি ধর্মান্তরণ প্রমাণিত হয় এবং তার ফলে সন্তান জন্ম নেয়, তবে সন্তানের কাস্টডি মায়ের কাছে থাকার বিধান আপত্তিজনক নয়। তবে, যদি সেই সন্তানের জন্য দুই পক্ষের সম্পত্তির উত্তরাধিকারীর বিষয়টি উঠে আসে, তাহলে এটি শরীয়তের উত্তরাধিকার বিধির সাথে সংঘর্ষ তৈরি করতে পারে।
মৌলানা আরও বলেন, ধর্মান্তরণ একটি ব্যক্তির চিন্তা এবং বিশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত বিষয়। কাউকে জবরদস্তি ধর্ম পরিবর্তন করতে বাধ্য করা উচিত নয়। ইসলামেও জবরদস্তি ধর্মান্তরণের অনুমতি নেই। আইন যদি অস্পষ্ট হয়, তবে এটি মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, আলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি মামলার কথা, যেখানে আদালত দুই প্রাপ্তবয়স্ক বোনের ধর্মান্তরণ এবং বিবাহের ক্ষেত্রে তাদের প্রাপ্তবয়স্কতা এবং নিজের পছন্দের অধিকারকে গুরুত্ব দিয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উপর জরিমানা আরোপও করেছে।
লভ জিহাদ নিয়ে মৌলানা মালিক বলেন, প্রেম এবং জিহাদ দুটি ভিন্ন ধারণা। কোনো আন্তঃধর্ম বিবাহকে শুধুমাত্র ধর্মের ভিত্তিতে ‘লভ জিহাদ’ বলা উচিত নয়। যদি দুই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি তাদের ইচ্ছায় বিবাহ করেন এবং তাদের মধ্যে একজনের ধর্ম ভিন্ন হয়, তবে এটি রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখা উচিত নয়। ধর্মান্তরণ এবং আন্তঃধর্ম বিবাহের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোর রাজনৈতিকরণ সমাজের জন্য উপযুক্ত নয়।














Leave a Reply