
মুম্বাই, এপ্রিল 27: বিহারের মুজফফরপুরে সাইবার ঠগরা ‘ডিজিটাল অরেস্ট’ এর ভয় দেখিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে 67 লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ঠগরা নিজেদের সিবিআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় হোয়াটসঅ্যাপ কলের মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে ফাঁদে ফেলেছিল এবং মনি লন্ডারিং মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় করে।
মামলাটির প্রেক্ষিতে মুজফফরপুর পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বাবা-ছেলে মিলিয়ে দুই সাইবার ঠগকে গ্রেফতার করেছে।
জানা গেছে, ৪ এপ্রিল এবং ৬ এপ্রিল সাইবার ঠগরা মুজফফরপুরের বাসিন্দা মহেশ গামীকে হোয়াটসঅ্যাপ কল করে। তারা নিজেদের সিবিআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জানান যে তার আধার কার্ড মনি লন্ডারিংয়ে ব্যবহৃত হয়েছে। এরপর ‘ডিজিটাল অরেস্ট’ করে গ্রেফতারের হুমকি দেওয়া হয়। ভয় ও চাপের কারণে মহেশ গামী ঠগদের নির্দেশিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে 67 লাখ টাকা স্থানান্তর করেন।
টাকা হারানোর পর মহেশ গামী বুঝতে পারেন যে তিনি ঠকেছেন এবং এরপর সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় সিনিয়র এসপি কান্তেশ মিশ্রা সিটি এসপি মোহিবুল্লাহ আনসারির নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করেন। টিমে সাইবার থানার ডিএসপি রোহন কুমারসহ অন্যান্য সাইবার কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
পুলিশ টিম প্রযুক্তিগত এবং মানবিক তদন্তের ভিত্তিতে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণ করে সাইবার ঠগদের খুঁজে বের করে। তদন্তে দেখা যায়, পাটনার রাজীব নগর থানার বাসিন্দা প্রিয়রঞ্জন শর্মা এবং অনন্ত অভিষেক, যারা বাবা-ছেলে, একত্রে এই প্রতারণা চালিয়েছে।
তদন্তে আরও জানা যায় যে, দুই অভিযুক্ত একটি এনজিওর আড়ালে সাইবার ঠকার একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল। পুলিশের মতে, তাদের নেটওয়ার্ক চেন্নাই এবং মুম্বাইয়ের সঙ্গেও যুক্ত। তাদের বিরুদ্ধে চেন্নাই এবং মুম্বাইয়ে মামলা দায়ের রয়েছে। পুলিশ দুই অভিযুক্তের অপরাধমূলক এবং সাইবার অপরাধের পুরনো রেকর্ড খতিয়ে দেখছে।
মুজফফরপুর পুলিশ অভিযুক্তদের কাছ থেকে ২৩,৯০০ টাকা নগদ, একটি ল্যাপটপ, বিভিন্ন ব্যাংকের ১৯টি পাসবুক ও চেকবুক, তিনটি মোবাইল ফোন, চারটি মুদ্রা, একটি পেন ড্রাইভ, তিনটি স্ক্যানার এবং ব্যাংকিং সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি উদ্ধার করেছে।
পুলিশ এই অভিযানকে বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছে। সিনিয়র এসপি কান্তেশ মিশ্রা বলেন, ডিজিটাল যুগে মানুষের উচিত তাদের নথি এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকা। তিনি বলেন, যদি কেউ সাইবার ঠকার শিকার হন, তবে দ্রুত সাইবার থানায় যোগাযোগ করুন এবং অভিযোগ দায়ের করুন। সময়মতো অভিযোগ করার মাধ্যমে ঠকানো থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।














Leave a Reply