
উদয়পুর, মার্চ ১৪: প্যাসিফিক একাডেমি অব হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (পিএইচইআর) বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ বিভাগের শিক্ষার্থীরা একটি শিক্ষামূলক সফরের অংশ হিসেবে দেবারীতে অবস্থিত আয়ুরনাতুর হাসপাতাল ও গবেষণা কেন্দ্রে গিয়েছিলেন।
এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান প্রদান করা এবং যোগ, আয়ুর্বেদ ও ন্যাচারোপ্যাথির মধ্যে সম্পর্ক বোঝাতে সাহায্য করা। সফরের সময়, শিক্ষার্থীরা, অধ্যাপক ড. শুভা সুরানা এবং অতিথি অধ্যাপক রাজেশ ট্যাঙ্কের সাথে, হাসপাতালে বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সাথে আলোচনা করেন।
হাসপাতালে ডাক্তার এবং বিশেষজ্ঞরা শিক্ষার্থীদের আয়ুর্বেদের মৌলিক নীতিগুলি পরিচয় করিয়ে দেন। তারা ব্যাখ্যা করেন যে, আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, মানবদেহ তিনটি প্রধান দোষ—বাত, পিত্ত এবং কফ দ্বারা পরিচালিত হয়। যখন এগুলি সঠিকভাবে ভারসাম্য বজায় রাখে, তখন একজন ব্যক্তি সুস্থ থাকে, কিন্তু এই দোষগুলির ভারসাম্যহীনতা বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করতে পারে।
শিক্ষার্থীদের সফরের সময় ন্যাচারোপ্যাথি বিভাগেরও পরিচয় করানো হয়। বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেন যে, ন্যাচারোপ্যাথি প্রকৃতির পাঁচটি উপাদানের উপর ভিত্তি করে—মাটি, জল, আগুন, বায়ু এবং স্থান। এই উপাদানগুলির সাহায্যে শরীরের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। মাড থেরাপি, হাইড্রোথেরাপি, সূর্যস্নান, সুষম খাদ্য এবং যোগ অনুশীলন ন্যাচারোপ্যাথির মূল পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
যোগ বিভাগের প্রধান ড. জসওয়ান্ত মেনারিয়া বলেন, এই ধরনের শিক্ষামূলক সফর শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এই সফরগুলি শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষে শেখানো ধারণাগুলি বাস্তব জীবনের পরিবেশে বোঝার এবং পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ দেয়। এটি ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় জ্ঞান ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা এবং আগ্রহও বাড়ায়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এই সফরকে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন যে, নতুন প্রজন্মের জন্য আয়ুর্বেদ এবং ন্যাচারোপ্যাথির মতো প্রাচীন ভারতীয় পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, এটি স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায় এবং মানুষকে একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গ্রহণে অনুপ্রাণিত করে।
পিএইচইআর বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ শিক্ষার্থীদের এই শিক্ষামূলক সফর তথ্যপূর্ণ এবং অনুপ্রেরণামূলক প্রমাণিত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সফরের সময় অর্জিত জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা তাদের ভবিষ্যৎ পড়াশোনা এবং জীবনে ব্যবহার করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।














Leave a Reply