Bengal Daily Kiran

Latest Bengal News – Breaking News Today, Live News, World

রাজপাল যাদবের ‘জঙ্গল’ থেকে ‘মঙ্গল’ পর্যন্ত যাত্রা

রাজপাল যাদবের ‘জঙ্গল’ থেকে ‘মঙ্গল’ পর্যন্ত যাত্রা

মুম্বাই, মার্চ ১৫: সিনেমা জগতে সাধারণত ধারণা করা হয় যে, দীর্ঘ কদ-কাঠি এবং আকর্ষণীয় মুখই সফলতার প্রথম সিঁড়ি। তবে রাজপাল যাদব প্রমাণ করেছেন যে, শিল্পের জন্য শারীরিক মাপের প্রয়োজন নেই; বরং এটি শুধুমাত্র সমর্পণ এবং সাধনার বিষয়। কদ কম হলেও তার অভিনয়ের পরিধি বিশাল।

উত্তর প্রদেশের শাহজাহানপুর জেলার কুন্দ্রা গ্রামে ১৫ মার্চ জন্মগ্রহণ করা রাজপাল যাদব কখনোই ভাবেননি যে তিনি বড় হয়ে অভিনেতা হবেন। তবে স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি আর্ট থিয়েটার যোগ দেন এবং সিদ্ধান্ত নেন যে, যা কিছু করবেন তা শিল্পের ক্ষেত্রেই করবেন।

অভিনয়ের জটিলতাগুলি শেখার জন্য তিনি শিক্ষার ক্ষেত্রেও দীর্ঘ যাত্রা করেছেন। স্নাতক শেষ করার পর তিনি লখনউতে গিয়ে ভারতীয় নাট্য একাডেমিতে পড়াশোনা করেন এবং পরে দিল্লির প্রখ্যাত শিল্প প্রতিষ্ঠান এনএসডির অংশ হন।

এই যাত্রায় পাঁচ বছরের দীর্ঘ প্রশিক্ষণের সময় তিনি সবকিছু গভীরভাবে শিখেছেন। রাজপাল যাদবের ক্যারিয়ার শুরুতে সহজ ছিল না। তিনি সিনেমার আগে অনেক নাটকে সাইড রোল করেছেন, কিন্তু বিশেষ পরিচিতি পাননি। তবে প্রথম সিনেমা ‘শূল’ এ একটি ছোট রোলে তিনি প্রযোজক-নির্দেশক রাম গোপাল ভার্মার নজরে আসেন।

রাম গোপাল ভার্মা তার প্রশংসা করেন, কিন্তু রাজপাল বিশ্বাস করতে পারেননি যে, একটি ছোট রোলের জন্য তিনি প্রশংসিত হচ্ছেন। এ কারণে ‘জঙ্গল’ সিনেমার আগে তিনি আরজিভির সাথে সাক্ষাৎ করেননি, কিন্তু পরিচালক এতটাই প্রভাবিত হয়েছিলেন যে, তিনি নিজেই রাজপালের সাথে দেখা করতে আসেন।

রাজপাল মনে করেছিলেন যে, ‘জঙ্গল’ সিনেমায় সকল বড় তারকা রয়েছেন এবং তার মতো ছোট কদ-কাঠির জন্য কি কাজ হবে। কিন্তু তাকে ‘সিপ্পা’ নামের একটি খ dangerous ডাকুর চরিত্র দেওয়া হয়। সেই সময় পরিচালক বিশেষভাবে বলেছিলেন যে, চরিত্রটি আপনার জন্যই লেখা হয়েছে। সিনেমায় সুনীল শেট্টি, ফেরদীন খান এবং উর্মিলা মাতন্ডকরের মতো বড় তারকারা ছিলেন, তবে রাজপাল আলাদা পরিচয় তৈরি করতে সফল হন। ‘জঙ্গল’ তার ক্যারিয়ারের হিট সিনেমা ছিল এবং এরপর তিনি কখনো পিছনে ফিরে তাকাননি।

রাজপাল যাদব শুধুমাত্র কমেডিয়ান নন, বরং তিনি প্রতিটি চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নেন। ‘ভুল ভুলাইয়া’ এর নটবর উরফে ছোট পণ্ডিত হোক বা ‘আমি মাধুরী দীক্ষিত হতে চাই’ সিনেমার চরিত্র, উভয়ই একে অপর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল, কিন্তু রাজপাল উভয় চরিত্রকেই জীবন্ত করে তুলেছেন। তিনি শুধু হাসানোর ক্ষমতা রাখেন না, বরং কাঁদানোরও যোগ্যতা রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *