
লখনউ, জুন ২: উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনউতে এক মহিলা সেনাকর্মীর বিরুদ্ধে পাঁচ বছর ধরে বন্দী করে ধর্ষণ ও ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। পুলিশ প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের ভূমিকা তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সৈরপুর থানার বাসিন্দা ওই মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে ৩০ মে সেনাকর্মী মঞ্জুর আলী, তার ভাই কামাল এবং আত্মীয় সালমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং সোমবার মঞ্জুর আলীকে গ্রেফতার করে।
মহিলার অভিযোগে বলা হয়েছে, তার বিয়ে সীতাপুর জেলায় হয়েছিল। মার্চ ২০২১-এ তিনি তার মায়ের বাড়ি সৈরপুরে ফিরে আসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সময় লখিমপুর খীড়ির মহঙ্গুখেড়া গ্রামের মঞ্জুর আলী তাকে রাতে নেশাদ্রব্য সুঁগিয়ে অপহরণ করে। এরপর অভিযুক্ত তাকে বিভিন্ন স্থানে বন্দী করে রেখে ধর্ষণ করতে থাকে।
মহিলার অভিযোগ, অভিযুক্ত তাকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে রাখতেন, যাতে তিনি কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, মঞ্জুর আলী তার উপর ধর্ম পরিবর্তনের চাপ দিতেন এবং প্রতিবাদ করলে তাকে ভয় দেখাতেন।
এফআইআরের তথ্য অনুযায়ী, যখন মঞ্জুর আলী ডিউটিতে যেতেন, তখন তিনি মহিলাকে তার ভাই কামাল এবং আত্মীয় সালমানের কাছে রেখে যেতেন। মহিলার অভিযোগ, তারা দুজন তাকে প্রাণে মারার হুমকি দিয়ে লুকিয়ে রাখতেন এবং বাইরের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে দিতেন না।
মহিলা জানান, কিছু দিন আগে তিনি এক প্রতিবেশীর সাহায্যে তার বাবার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। এরপর তার বাবা ওই ঠিকানায় পৌঁছে তাকে নিয়ে সৈরপুরে ফিরিয়ে আনেন। এরপর পরিবার পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় বিস্তারিত তদন্ত চলছে। প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











Leave a Reply