Bengal Daily Kiran

Latest Bengal News – Breaking News Today, Live News, World

লতা মঙ্গেশকরের গায়কীতে খুঁত খুঁজতেন উস্তাদ বিসমিল্লাহ খান

লতা মঙ্গেশকরের গায়কীতে খুঁত খুঁজতেন উস্তাদ বিসমিল্লাহ খান

মুম্বাই, মার্চ ২০: শহনাইয়ের সেই অমর সুর, যা সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ভারতীয় সংস্কৃতির আত্মাকে প্রকাশ করেছে, তিনি হলেন ‘ভারত রত্ন’ উস্তাদ বিসমিল্লাহ খান।

উস্তাদ বিসমিল্লাহ খান শুধু একজন মহান সঙ্গীতজ্ঞই নন, বরং সাদগুণ এবং গঙ্গা-জমুনা সংস্কৃতির এক নিখুঁত উদাহরণ। মন্দিরের চৌকাঠে রিয়াজ করা উস্তাদ প্রতিটি ইবাদতে আল্লাহর কাছে শুধুমাত্র ‘সত্য সুর’ প্রার্থনা করতেন। তিনি তাঁর শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত সুরের সাধনা করেছেন। সঙ্গীতের প্রতি নিবেদিত উস্তাদ বিসমিল্লাহ খান নিজেও মহান শিল্পীদের ভক্ত ছিলেন; তিনি সুরের কোকিলা লতা মঙ্গেশকর এবং বিখ্যাত গায়িকা বেগম আখতারের বড় ভক্ত ছিলেন।

২১ মার্চ বিহারে জন্মগ্রহণকারী বিসমিল্লাহ খান সঙ্গীতের প্রেমে ৬ বছর বয়সে বানারসে চলে আসেন, যেখানে তিনি মন্দিরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিয়াজ করতেন এবং মা সরস্বতীর বড় উপাসক ছিলেন। তিনি কখনো সঙ্গীতকে ধর্মের মধ্যে আসতে দেননি, এবং সম্ভবত এই কারণেই বানারসে বয়ে যাওয়া গঙ্গার প্রতিটি ঢেউ তাঁর সুরের সাক্ষী হয়ে উঠেছিল। নিজে শহনাই এবং সঙ্গীতে খ্যাতি অর্জন করা বিসমিল্লাহ খান লতা মঙ্গেশকর এবং গায়িকা বেগম আখতারের কণ্ঠস্বর খুব পছন্দ করতেন। এমনকি রাত ২টায় তিনি বেগম আখতারের ‘দেওয়ানা বানানা হ্যায় তো দেওয়ানা বানাদে, বরনা কই তকদীর তামাশা না বানাদে’ গজল শুনে সকালে রেকর্ড কোথায় বাজছে তা খুঁজতে বেরিয়ে পড়তেন।

বিসমিল্লাহ খান ঘুমন্ত অবস্থায় এই গজল শুনেছিলেন, এবং তিনি বেগম আখতারের গায়কীতে মুগ্ধ হয়ে যান। তাঁর মতে, বেগম আখতারের কণ্ঠে একটি জাদু ছিল, যা প্রত্যেকেই প্রকাশ করতে পারে না।

উস্তাদ বিসমিল্লাহ খান লতা মঙ্গেশকরের গায়কীতেও ভক্ত ছিলেন। আকর্ষণীয় বিষয় হলো, তিনি প্রায়ই লতার গায়কীতে কোনো সূক্ষ্ম ত্রুটি বা খুঁত খুঁজে বের করার চেষ্টা করতেন, কিন্তু প্রতিবারই ‘পূর্ণতা’ পেতেন। এক পুরনো সাক্ষাৎকারে শহনাই সম্রাট নিজেই স্বীকার করেছিলেন, ‘যে অভিব্যক্তি লতার স্বরে আছে, তা অন্য কারো মধ্যে নেই। যখন তাঁর রেকর্ড বাজতো, আমি খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতাম এবং জানার চেষ্টা করতাম যে কোথাও কোনো সুর একটু নড়বড়ে হয়েছে বা কোনো শব্দ বেসুরা হয়েছে কিনা, কিন্তু কখনোই হয়নি। প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি সুর একদম সমান ছিল। তিনি যখন কথা বলতেন, সুরেলা কথা বলতেন; যা লতায় আছে, তা অন্য কোথাও নেই।’

উস্তাদ বিসমিল্লাহ খান এবং লতা মঙ্গেশকর উভয়েই সঙ্গীতকে বৈশ্বিক পর্যায়ে পরিচিত করতে তাঁদের নিজ নিজ অবদান রেখেছেন। উভয়কেই ২০০১ সালে একসাথে ভারতের সর্বোচ্চ নাগরিক পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছিল। তাঁরা উভয়েই সাদগুণ এবং সঙ্গীতের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে জীবন কাটিয়েছেন।

পি এস/এএস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *