
লন্ডন, সেপ্টেম্বর ৭: জাতীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এর সর্বোচ্চ নেতা ড. মোহন ভাগবত ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনে ‘একতা का जश्न’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, হিন্দু কেবল একজন ব্যক্তি নয়, বরং পরিবার, সমাজ এবং মানবতার প্রতিনিধিত্ব করে। তিনি উল্লেখ করেন, হিন্দু কেবল প্রকৃতির পূজা করে না, বরং তার প্রতি প্রেমও অনুভব করে। এই প্রেমই একতা, চরিত্র গঠন এবং সংঘের কার্যপদ্ধতির ভিত্তি।
ড. ভাগবত বলেন, হিন্দু চিন্তা একটি ধারণার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যা বলে “অস্তিত্ব এক, যদিও তা বিভিন্ন রূপে প্রকাশিত হয়।” তিনি বলেন, বৈচিত্র্য প্রকৃতির একটি স্বাভাবিক অংশ এবং এটি গ্রহণ ও সম্মান করা হিন্দু দর্শনের মূল।
তিনি আরও বলেন, যদি সংঘকে একটি ধারণায় সংজ্ঞায়িত করতে হয়, তবে তা হলো “আপনাপন”। তাঁর মতে, আপনাপন হল সকলের প্রতি বিশুদ্ধ ও সাত্ত্বিক প্রেম, যা হিন্দুর ঐতিহ্যগত স্বভাব। তিনি বলেন, বৈচিত্র্যকে অস্তিত্বের একতার বিভিন্ন অলঙ্কার হিসেবে দেখা উচিত।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর আস্থা প্রকাশ করে ড. ভাগবত বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিশ্বের উন্নতির ইচ্ছা রয়েছে। তিনি বলেন, যুবকদের লক্ষ্য দিন, পদ্ধতি না। তারা সার্বজনীন নৈতিকতা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্য দ্রুত অর্জন করবে।
অনুষ্ঠানে ব্রিটেনে বসবাসকারী হিন্দুদের প্রতি নिष्ठা সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে ভাগবত বলেন, এতে কোনো সংঘাত নেই। তিনি বলেন, যদি কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে ব্রিটিশ হিন্দুদের নিষ্ঠা ব্রিটেনের প্রতি থাকবে। তিনি স্পষ্ট করেন, কর্মভূমি সেই স্থান যেখানে ব্যক্তির নিষ্ঠা থাকে, আর জন্মভূমি ও পুণ্যভূমি হলো সেই স্থান যেখানে তার সংস্কার ও মূল্যবোধ পাওয়া যায়। এই মূল্যবোধকে কর্মভূমির সেবায় প্রয়োগ করাই হিন্দুত্বের বার্তা।
সংঘের কার্যক্রমের উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বয়ংসেবক মানব জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই সক্রিয়। তাই তাদের কার্যক্রমের পুরো পরিধি কিছু শব্দে বর্ণনা করা কঠিন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে যারা বিরোধিতা করেন, তারাও স্বয়ংসেবকদের কাজ ও গুণাবলীর প্রশংসা করেন এবং সময়ে সময়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সংঘের সহযোগিতা ও সংলাপ চান। এটি সমাজে সংঘের কার্যক্রমের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা নির্দেশ করে।
–
ডিএসসি













Leave a Reply