
কলম্বো, মার্চ ১৮: শ্রীলঙ্কায় পুনরায় চালু হওয়া জাতীয় জ্বালানি পাস কিউআর কোড সিস্টেম এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অনেক গাড়ির মালিক অভিযোগ করছেন যে, তারা তাদের সাপ্তাহিক জ্বালানি কোটা নিতে পারছেন না, কারণ সিস্টেম তাদের গাড়িগুলোকে পুরনো মালিকের নামে রেজিস্টার্ড দেখাচ্ছে।
শ্রীলঙ্কার প্রধান ইংরেজি দৈনিক ডেইলি মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন যাঁরা সেকেন্ড-হ্যান্ড গাড়ি কিনেছেন। এই গাড়ির মালিকরা নতুন কিউআর কোড তৈরি করতে পারছেন না, কারণ অনলাইন পোর্টাল দেখাচ্ছে যে গাড়িটি অন্য কোনো ব্যবহারকারীর নামে রেজিস্টার্ড। এর ফলে তারা দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিতে পারছেন না।
লোকজনের অভিযোগ, এই সমস্যা বিশেষ করে পুরনো গাড়ির ক্ষেত্রে বেশি দেখা যাচ্ছে, যখন নতুন গাড়ির মালিকরা কোনো সমস্যা ছাড়াই রেজিস্ট্রেশন করতে পারছেন। অনেকের কাছে সিস্টেমে পুরনো মালিকের তথ্য যাচাই করার জন্য বলা হচ্ছে, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।
যেসব গাড়ি একাধিকবার কেনা-বেচা হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে সমস্যা আরও গুরুতর। পুরনো রেজিস্ট্রেশনের সাথে যুক্ত মোবাইল নম্বরগুলো এখন ব্যবহার করা হচ্ছে না। নতুন মালিকরা যখন রেজিস্ট্রেশন করার চেষ্টা করেন, তখন তারা বার্তা পান যে গাড়িটি ইতিমধ্যেই রেজিস্টার্ড, ফলে প্রক্রিয়া এগোতে পারে না।
এই প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে অনেক গাড়ির মালিক তাদের সাপ্তাহিক জ্বালানি কোটা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর ফলে কাজের জন্য যাওয়া, মালামাল পরিবহণ এবং দৈনন্দিন দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই সমস্যার প্রভাব জ্বালানি স্টেশনগুলিতেও পড়ছে, যেখানে দীর্ঘ লাইন এবং বিতর্কের পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। কিছু মানুষ এই সিস্টেমকে দায়ী করছেন, যা প্রকৃত ব্যবহারকারীদের ব্লক করছে। অনেকেই সতর্ক করেছেন যে, যদি দ্রুত সমাধান না পাওয়া যায়, তাহলে হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ডিজিটাল প্রযুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের প্রচেষ্টার উপরও প্রশ্ন উঠছে। অনেকের অভিযোগ, তাদের ফোন কলের উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না এবং মেসেজে অটো-রিপ্লাই আসছে—”দুঃখিত, আমি এখন কথা বলতে পারছি না।”
জাতীয় জ্বালানি পাস প্ল্যাটফর্মে গাড়ির মালিকানা আপডেট করার জন্য স্পষ্ট প্রক্রিয়া না থাকায় মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
সরকার সম্প্রতি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে সীমিত জ্বালানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য কিউআর-ভিত্তিক জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থা পুনরায় চালু করেছে। তবে, বর্তমান প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলি এই সিস্টেমের প্রস্তুতি এবং সক্ষমতার উপর প্রশ্ন তুলেছে।
মোটর চালকরা সরকারের কাছে দাবি করেছেন যে, গাড়ির মালিকানা আপডেট করার সহজ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করতে হবে, নাহলে বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও হাজার হাজার মানুষ জ্বালানি থেকে বঞ্চিত হবে।
এছাড়াও, জানা গেছে যে অনেক মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় কিউআর কোড পাওয়ার নামে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। তারা এখনও জ্বালানি স্টেশনগুলিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কা সরকার কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সোমবার থেকেই ত্বরিত নির্দেশনা জারি করা হচ্ছে। প্রথমে স্কুল-দফতরে সপ্তাহের মাঝের ছুটির ঘোষণা করা হয়, এরপর বুধবার পাবলিক পরিবহনে সীমিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় এবং কিউআর স্ক্যানের ঘোষণা দেওয়া হয়। বুধবার সিলন পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (সিপিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ড. ময়ূর নেত্তিকুমারাগে একটি নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান।
আদা ডেরানা নিউজ আউটলেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাড়ির মালিকদের ‘অড-ইভেন’ নম্বর প্লেট সিস্টেমের অধীনে জ্বালানি কেনার অনুমতি দেওয়া হবে। এই সিস্টেমের অধীনে, যেসব গাড়ির নম্বর প্লেটের শেষ সংখ্যা শূন্য (০) বা কোনো ‘ইভেন’ (জোড়) সংখ্যা, তাদের ‘ইভেন’ তারিখগুলোতে জ্বালানি কেনার অনুমতি দেওয়া হবে।














Leave a Reply