
নতুন দিল্লি, মার্চ ২: ৪ মার্চ দেশজুড়ে হলির উৎসব ব্যাপক উদযাপনের সঙ্গে পালিত হবে, এবং এর জন্য বাজারও প্রস্তুত।
রঙ ও পিচকারির বাজারে ভরে গেছে, কিন্তু আপনি কি জানেন যে ভারতের একটি অংশে হলি রঙের পরিবর্তে হলুদ পানির সঙ্গে পালিত হয়? আমরা কথা বলছি কেরালার, যেখানে হলি পালনের পদ্ধতি ঐতিহ্যবাহী এবং আধ্যাত্মিকভাবে ভিন্ন।
কেরালায় হলি নয়, বরং মঞ্জল কুলি পালিত হয়, যা পূর্ণিমা থেকে শুরু হয়ে চার দিন ধরে চলে। বিশেষত্ব হলো, এখানে রঙের পরিবর্তে হলুদ পানির ব্যবহার করা হয়। মঞ্জল কুলি বিশেষভাবে কেরালের গোশ্রীপুরম তিরুমালা মন্দিরে পালিত হয়। এই মন্দির গৌড় সারস্বত ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করে, যারা মঞ্জল কুলির মাধ্যমে জীবনের নেতিবাচকতা দূর করে।
মঞ্জল কুলি চার দিন ধরে চলে, যার প্রথম দিনে মন্দিরে সুখ ও সমৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত জিনিসপত্র দান করা হয়। ভক্তরা নারকেল, নারকেল তেল, হলুদ, কুমকুমসহ বিভিন্ন জিনিস অর্পণ করেন। এরপর দ্বিতীয় দিনে মন্দিরে হলুদ পেস্ট প্রস্তুত করা হয় এবং ভক্তরা তা শরীরে লাগান। এটি পরিবর্তিত ঋতুর প্রভাব কমাতে এবং শারীরিক ও মানসিক শুদ্ধতা অর্জনে সহায়ক বলে মনে করা হয়। যারা হলুদ পেস্ট ব্যবহার করেন না, তারা হলুদ পানিতে স্নান করেন।
তৃতীয় দিনে মন্দিরে রঙ পঞ্চমী উদযাপন হয়, যেখানে সবাই একে অপরকে রঙ লাগিয়ে এবং রঙের পানিতে হলি খেলেন। তৃতীয় দিনটি মিলনমেলার, যেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। শেষ ও চতুর্থ দিনে একটি সমবেত ভোজনের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠান মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রথমে ভগবানকে ভোগ দেওয়ার পর সবাই একে অপরকে ভালোবাসার সঙ্গে খাওয়ান। চতুর্থ দিনটি খাদ্যের গুরুত্ব বোঝায়।
মঞ্জল কুলির উদ্দেশ্য শুধু মানসিক ও শারীরিকভাবে নিজেকে পবিত্র করা নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ানোও। এই সময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়, যেখানে কেরালের শৈলী ও ঐতিহ্যের ঝলক দেখা যায়।











Leave a Reply