
তেহরান, জুলাই ৩: ইরানের প্রধান সামরিক কমান্ড খাতেম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার বৃহস্পতিবার সতর্কতা দিয়েছে যে, যদি আমেরিকা হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করে, তবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী ‘তীব্র এবং সিদ্ধান্তমূলক’ প্রতিক্রিয়া জানাবে।
সিনহুয়া নিউজ এজেন্সির রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালী আমেরিকার জন্য কোনো ‘মনমর্জি করার স্থান’ নয়, বরং এটি ইরানের ‘অবাধ সার্বভৌমত্ব’ এর এলাকা।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই জলপথের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা ইরানি সেনাবাহিনীর জন্য একটি লাল রেখা, যা কোনো মূল্যে অতিক্রম করা যাবে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া সকল তেল ট্যাঙ্কার এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ইরানের দ্বারা নির্ধারিত সামুদ্রিক পথ ব্যবহার করতে হবে। যদি কোনো জাহাজ এই নিয়মগুলি অনুসরণ না করে বা অন্য পথ ব্যবহার করে, তবে ইরানি সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিক এবং কঠোর পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি, এমন জাহাজগুলোর নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
হেডকোয়ার্টার জানিয়েছে যে, যদি আমেরিকা হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করতে বা সেখানে কোনো বাধা সৃষ্টি করতে চেষ্টা করে, তবে ইরান এটিকে তার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করবে এবং তাৎক্ষণিক ও সিদ্ধান্তমূলক প্রতিক্রিয়া জানাবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, এই জলপথে আমেরিকান যুদ্ধবিমান এবং ড্রোনের ক্রমাগত উপস্থিতি অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে। ইরান বলেছে যে, তার সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমেরিকা এবং তার সমর্থকদের কোনো ‘আক্রমণাত্মক কার্যকলাপকে দমন’ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।
এদিকে, বৃহস্পতিবার ইরানের আইনগত ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ একটি পোস্টে বলেছেন যে, হরমুজ প্রণালী ‘আমেরিকান সেন্ট্রাল কমান্ডের নয়, বরং ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
তার এই বক্তব্য একদিন পরে এসেছে, যখন আমেরিকান সেন্ট্রাল কমান্ড বাহরাইনে ১২টি দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে একটি ‘নিরাপত্তা সংলাপ’ আয়োজন করে। এই বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালী থেকে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।














Leave a Reply