
উজ্জয়ন, জুলাই ৩: শ্রী মহাকালেশ্বর মন্দিরে আষাঢ় কৃষ্ণ পক্ষ তৃতীয়ার উপলক্ষে শুক্রবার মহাকাল দেবের ভাস্ম আরতির আয়োজন করা হয়। এই অলৌকিক দৃশ্য দেখতে মন্দির প্রাঙ্গণে বিপুল সংখ্যক ভক্ত উপস্থিত ছিলেন। ভক্তরা রাত থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে মহাকালের দর্শন লাভ করেন।
শুক্রবার ভোরে ভগবান বীরভদ্রের নির্দেশে ঢোল-নগাড়ার সঙ্গে মহাকালের দরজা খোলা হয়। দেবদূত সাজসজ্জা ও ভাস্ম আরতির পর ভক্তরা যখন মহাকালের দর্শন পান, পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ “জয় শ্রী মহাকাল” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। মন্দিরের পরিবেশ ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি ও মন্ত্রোচ্চারণে গুঞ্জরিত হয়।
মহাকাল মন্দিরের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে ভগবান মহাকালের জলাভিষেক করা হয়। দুধ, দই, ঘি, চিনি ও ফলের রস দিয়ে তৈরি পঞ্চামৃত দিয়ে অভিষেক করা হয়। মহাকালকে “হরি ওম” জল অর্পণ করা হয়। মহাকালের মস্তকে শ্রী রামের নাম ও বৈষ্ণব তিলক লাগানো হয়। ভাস্ম আরতির সময় দেবদূত সাজসজ্জা করা হয়।
মহাকাল মন্দিরের পুরোহিত মহাআরতি সম্পন্ন করেন। বিপুল সংখ্যক ভক্ত মহাকালের ভাস্ম আরতির দর্শন লাভ করেন। তাদের মধ্যে অনেকেই বিগত রাত থেকেই মহাকালের দর্শন করতে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
তথ্য অনুযায়ী, আগে মহাকালকে শ্মশানের ছাই অর্পণ করা হতো, কিন্তু এখন বিশেষভাবে কাপিলা গরুর গোবর ও ঔষধি গুলির তৈরি ভাস্ম ব্যবহার করা হয়। ভাস্ম আরতির সময় পুরুষদের জন্য ঐতিহ্যবাহী ধোতি-সোলা এবং মহিলাদের জন্য শাড়ি পরা বাধ্যতামূলক।
বাবা মহাকালের আরতি দেশ-বিদেশে বিখ্যাত, যা দেখতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যক্তিত্বরাও আসেন। এ সময় মন্দিরের আশেপাশে নিরাপত্তা বজায় রাখতে ব্যাপক সংখ্যক পুলিশ কর্মী মোতায়েন থাকে।













Leave a Reply