
ভাগলপুর, আগস্ট ২১: প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী চৌবে কংগ্রেসের ‘বন্দে মাতরম’ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভারত ‘বন্দে মাতরম’ এর অপমান সহ্য করবে না। কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান ক্রমাগত দুর্বল হওয়ার অভিযোগ তুলে চৌবে বলেন, যদি কংগ্রেসকে দেশপ্রেম নিয়ে সমস্যা থাকে, তাহলে তাদের ‘বন্দে মাতরম’ এর দুই পঙ্ক্তি গাওয়ারও প্রয়োজন নেই।
অশ্বিনী চৌবে আরও বলেন, কংগ্রেসকে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার জন্য বাধ্য করা হচ্ছে না। কিন্তু, গানটির গাওয়া বন্ধ করে দেওয়ার যে চেষ্টা হচ্ছে, তা কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও দুর্বল করবে। কংগ্রেস যদি দেশপ্রেমের প্রতি বিরক্ত থাকে, তাহলে কেন তারা দুই লাইন গাইবে? তারা না গাইলেও কেউ তাদের বাধা দিচ্ছে না।
তিনি উল্লেখ করেন, কংগ্রেসের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান আরও খারাপ হতে পারে। কংগ্রেস নিজেই এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে, যা তাদের রাজনৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করছে। চৌবে প্রশ্ন তোলেন, যদি রাজনৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সম্ভব হয়, তাহলে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার প্রয়োজন কেন?
তিনি বলেন, কংগ্রেস যা গাইতে চায়, তা গাইতে পারে এবং দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করতে পারে, এতে তাদের কেউ আটকাচ্ছে না। তবে, দেশপ্রেম এবং জাতীয় দায়িত্ব সকলের। জাতীয় প্রেম কেবল একজন বা একটি সরকারের দায়িত্ব নয়। আগামী প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেমের অনুভূতি জাগানো এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। ‘বন্দে মাতরম’ কেবল একটি গান নয়, বরং এটি আগামী প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেমের অনুভূতি জাগানোর একটি মাধ্যম।
চৌবে 2047 সালের কথা উল্লেখ করে বলেন, স্বাধীনতার 100 বছর পূর্তির সময় বর্তমান প্রজন্ম হয়তো সেখানে উপস্থিত থাকবে না, কিন্তু দেশ থাকবে এবং আজকের যুবকরা তখন ভারতের ভবিষ্যৎকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আজ জন্ম নেওয়া প্রজন্ম 2047 সালে প্রায় 20 বছর বয়সী হবে। তাই তাদের মধ্যে দেশপ্রেম এবং জাতীয় দায়িত্বের অনুভূতি জাগানো জরুরি।
তিনি আরও বলেন, দেশ সনাতন সংস্কৃতির অপমানও সহ্য করবে না। ভারতের সংস্কৃতি ‘বাসুধৈব কুটুম্বকম’ এর মাধ্যমে সারা বিশ্বকে একটি পরিবার হিসেবে দেখার বার্তা দিয়েছে। ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে সংসদে আইন পাস করা হয়েছে। সরকার এবং সকল সাংসদ মিলে এটি পাস করেছেন। যদি কংগ্রেস এটি গাইতে না চায় বা এ বিষয়ে আলাদা সিদ্ধান্ত নিতে চায়, তাহলে এটি তাদের নিজস্ব ইচ্ছা।
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ওই প্রশ্নগুলোরও জবাব দেন, যেখানে ‘বন্দে মাতরম’ কে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়। তিনি বলেন, এই গানটিকে কোনো এক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দেখা উচিত নয়। চৌবে বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং স্বামী বিবেকানন্দের উল্লেখ করে বলেন, এই ব্যক্তিরা ভারতের উন্নয়ন এবং দেশের পরিচয়কে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। 2047 সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার পথে দেশের নতুন প্রজন্ম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই যুবকদের দেশটির ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং দেশপ্রেমের অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি।
–
পিএসকে/এবিএম














Leave a Reply