Bengal Daily Kiran

Latest Bengal News – Breaking News Today, Live News, World

পালঘরে বন্যা ত্রাণ অভিযান ত্বরান্বিত, ১৯ হাজারের বেশি বাড়ির সার্ভে সম্পন্ন

পালঘরে বন্যা ত্রাণ অভিযান ত্বরান্বিত, ১৯ হাজারের বেশি বাড়ির সার্ভে সম্পন্ন

মুম্বাই, জুলাই ২৫: মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলায় জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে এবং তার পরবর্তী সময়ে ভারী বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বিপর্যয়ের পর প্রশাসন ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করেছে। বন্যায় আক্রান্ত হাজারো পরিবারকে সহায়তা পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসন ব্যাপক সার্ভে চালিয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৯,০২৬ জলবদ্ধ-প্রভাবিত বাড়ির পঞ্চনামা সম্পন্ন হয়েছে এবং যোগ্য সুবিধাভোগীদের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

পালঘরের পালক মন্ত্রী গণেশ নায়ক এবং জেলা প্রশাসক ড. ইন্দু রানি জাখড়ের নেতৃত্বে ত্রাণ কার্যক্রমের নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, কোনো যোগ্য সুবিধাভোগী সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবে না এবং সকল আক্রান্ত পরিবারকে সময়মতো সাহায্য দেওয়া হবে।

ভারী বৃষ্টির কারণে জেলায় জনহানির পাশাপাশি বাড়ি, কৃষি, পশুপালন এবং জনসাধারণের সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও বৃষ্টির কারণে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জনের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ১২টি পরিবার সরকারি সহায়তার জন্য যোগ্য বলে চিহ্নিত হয়েছে। প্রতিটি যোগ্য পরিবারকে ৪ লাখ টাকার অর্থনৈতিক সহায়তা অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮টি পরিবারকে মোট ৩২ লাখ টাকার সহায়তা ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে, অন্য যোগ্য পরিবারগুলোকেও শীঘ্রই সহায়তা দেওয়া হবে।

সার্ভের সময় দেখা গেছে, ৪৪টি পাকা বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং ৪২১টি পাকা বাড়ির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও ১২৬টি কাঁচা বাড়ি, ১০টি ঝুপড়ি এবং ৩টি গোশালা আক্রান্ত হয়েছে। পশুপালনের ক্ষেত্রে ৭টি বড় দুধারু পশু, ২৩টি ছোট দুধারু পশু এবং ৬টি কর্মক্ষম বড় পশুর ক্ষতি হয়েছে।

পালক মন্ত্রী গণেশ নায়ক আক্রান্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে কর্মকর্তাদের ক্ষতির হিসাব দ্রুত সম্পন্ন করতে এবং ত্রাণ অর্থে বিলম্ব না করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাজস্ব, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, পশুপালন, জনসাধারণের নির্মাণ এবং মহাবিতরণসহ বিভিন্ন বিভাগ একত্রে ক্ষতির সার্ভে সম্পন্ন করেছে।

জেলা প্রশাসক ড. ইন্দু রানি জাখড় জানিয়েছেন, উপবিভাগীয় কর্মকর্তাদের এবং তহসিলদারদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে ত্রাণ বিতরণের পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের বৃষ্টির কারণে হওয়া ক্ষতির পঞ্চনামা সম্পন্ন হয়েছে, এবং ২৩ জুলাইয়ের ভারী বৃষ্টির ফলে আক্রান্ত এলাকাগুলোর সার্ভে কাজ চলমান রয়েছে। পানি কমলে বাকি এলাকাগুলোর মূল্যায়ন সম্পন্ন করা হবে।

এদিকে, গণেশ নায়ক জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, পরিবর্তিত আবহাওয়ার কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা বাড়ছে। তিনি জানান, এই বর্ষায় পালঘর জেলা দীর্ঘ সময় ধরে রেড অ্যালার্টের অবস্থায় ছিল, যা অনেক এলাকায় বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

গণেশ নায়ক ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের বিমা করার আহ্বানও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভারী বৃষ্টির ফলে অনেক ব্যবসায়ীর বড় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এক কাপড় ব্যবসায়ীর ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার ক্ষতির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, পরিবর্তিত আবহাওয়ার যুগে ব্যবসা ও সম্পত্তির বিমা করানো জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *