Bengal Daily Kiran

Latest Bengal News – Breaking News Today, Live News, World

বিশ্ব মৌমাছি দিবস: মৌমাছির অভাব হলে খাদ্য নিরাপত্তা সংকটে পড়বে বিশ্ব

বিশ্ব মৌমাছি দিবস: মৌমাছির অভাব হলে খাদ্য নিরাপত্তা সংকটে পড়বে বিশ্ব

নতুন দিল্লি, মে ২০: ফল-ফুলের উপর বসবাসকারী ছোট ছোট মৌমাছি প্রকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তারা ফসলের পরাগায়নের কাজ করে। কিন্তু আপনি কি জানেন, মৌমাছির অভাবে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা এবং পুষ্টির উপর গভীর সংকট সৃষ্টি হতে পারে?

প্রতি বছর ২০ মে বিশ্ব মৌমাছি দিবস পালন করা হয়। ২০১৮ সাল থেকে এই দিনটি উদযাপন করা হচ্ছে। স্লোভেনিয়া সরকার এবং অ্যাপিমন্ডিয়ার প্রচেষ্টায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এই দিনটি ঘোষণা করেছে। এই তারিখটি আধুনিক মৌমাছি পালনের অগ্রদূত এন্টন জানশার জন্মদিনের কারণে নির্বাচিত হয়েছে। স্লোভেনিয়ায় মৌমাছি পালনের একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে।

বর্তমানে মৌমাছির সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে, তাই এই দিনটি তাদের সংরক্ষণের গুরুত্বকে তুলে ধরে। ২০ মে বিশ্ব মৌমাছি দিবস পালন করা হয়, যা মৌমাছি এবং পরাগায়নকারী পোকামাকড়ের আবাস রক্ষার, তাদের সংখ্যা বাড়ানোর এবং মৌমাছি পালনের প্রচার করার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির একটি সুযোগ।

জাতিসংঘ (ইউএন) জানিয়েছে, যদি বিশ্ব থেকে মৌমাছি এবং অন্যান্য পরাগায়নকারী প্রাণী (পোলিনেটর) বিলীন হয়ে যায়, তবে আমাদের খাদ্য তালিকার অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিসও বিলীন হয়ে যাবে। শুধুমাত্র মধু নয়, আপেল, চেরি, মরিচ, নাশপাতি, কুমড়ো, তরমুজ, অ্যাভোকাডো, কফি এবং চকোলেটও প্রভাবিত হবে।

ইউএন সতর্ক করেছে যে ঘন কৃষি, একক ফসলের চাষ, কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তন মৌমাছি এবং অন্যান্য পরাগায়নকারী প্রাণীদের দ্রুত বিপদে ফেলছে। তাদের সংখ্যা হ্রাস পেলে ফসল উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা সরাসরি খাদ্য নিরাপত্তা এবং মানব স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করবে।

মৌমাছি শুধুমাত্র মধু তৈরি করে না, বরং ফল, সবজি এবং ফুলের পরাগায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের প্রায় ৭৫ শতাংশ ফসলের পরাগায়ন মৌমাছি এবং অন্যান্য পোকামাকড়ের উপর নির্ভরশীল। যদি তাদের সংখ্যা আরও দ্রুত হ্রাস পায়, তবে অনেক জনপ্রিয় খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়বে বা বাজার থেকে অদৃশ্য হয়ে যাবে।

তবে, প্রতিটি ব্যক্তি মৌমাছি রক্ষায় অবদান রাখতে পারে। বাড়ির ব্যালকনি বা বাগানে ফুলের গাছ লাগান। কীটনাশক ব্যবহার করবেন না। মৌমাছির জন্য পরিষ্কার পানির একটি পাত্র রাখুন, যাতে তারা পানির সময় ডুবে না যায়। শিশুদের এবং পরবর্তী প্রজন্মকে মৌমাছির গুরুত্ব সম্পর্কে জানান। কৃষকরা ফুল এবং ফলের গাছ ক্ষেত্রগুলোতে লাগান, যাতে মৌমাছির খাবার পাওয়া যায় এবং ফসলের উৎপাদনও বাড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *