
লখনউ, অক্টোবর ৩:
কংগ্রেসের নতুন সামাজিক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা
উত্তর প্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস সংগঠনে পরিবর্তন আনছে। আরাধনা মিশ্র ‘মোনা’কে রাজ্য সভাপতি, ইমরান মাসুদকে কার্যনির্বাহী সভাপতি এবং দেবেন্দ্র নিশাদ ও আলোক প্রসাদকে সিনিয়র সহ-সভাপতি করে দলটি ব্রাহ্মণ, মহিলা, মুসলিম, ওবিসি এবং দলিত প্রতিনিধিত্ব একসঙ্গে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
কংগ্রেসের নতুন টিমকে সমাজবাদী দলের পিডিএ (পিছড়া, দলিত ও আলপসংখ্যক) এর সমান্তরালে একটি বিস্তৃত সামাজিক ভিত্তি তৈরি করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আরাধনা মিশ্র ‘মোনা’র রাজ্য সভাপতি হিসেবে নিয়োগের মাধ্যমে কংগ্রেস একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠিয়েছে। তিনি প্রতাপগড়ের রামপুর খাস আসন থেকে তিনবারের বিধায়ক এবং সিনিয়র কংগ্রেস নেতা প্রমোদ তিওয়ারির কন্যা। ২০১৯ সাল থেকে তিনি উত্তর প্রদেশ বিধানসভায় কংগ্রেস বিধায়ক দলের নেতা ছিলেন।
মোনা’র নিয়োগের মাধ্যমে কংগ্রেস প্রায় দেড় দশক পর রাজ্য সংগঠনের নেতৃত্বে একজন মহিলাকে নিয়োগ দিল। এর আগে রিতা বাহুগুনা যোশী ২০০৭ থেকে ২০১২ পর্যন্ত উত্তর প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি ছিলেন। রাজনৈতিকভাবে, মোনা’র নিয়োগ সমাজবাদী দলের সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্কের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য উভয় দলই জোটের রাজনীতির পথে রয়েছে, তবে আসন বণ্টন এবং রাজনৈতিক অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, কংগ্রেসের জন্য ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ এটি কখনও দলের ঐতিহ্যগত সামাজিক ভিত্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। আরাধনা মিশ্র মোনা’র রাজ্য সভাপতি হওয়ার মাধ্যমে কংগ্রেস এই শ্রেণীকে সংগঠনের শীর্ষ স্তরে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের বার্তা দিয়েছে।
এছাড়াও, ইমরান মাসুদকে কার্যনির্বাহী সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা পশ্চিমী উত্তর প্রদেশে কংগ্রেসের রাজনৈতিক ও সামাজিক পৌঁছানোর বার্তা দেয়। দেবেন্দ্র নিশাদ এবং আলোক প্রসাদকে সিনিয়র সহ-সভাপতি বানিয়ে সংগঠনের শীর্ষ স্তরে ওবিসি এবং দলিত প্রতিনিধিত্বও তুলে ধরা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিরেন্দ্র সিং রাওয়াত বলেন, কংগ্রেসের নতুন টিমকে সংগঠনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা উচিত নয়। কংগ্রেসের উদ্দেশ্য হল সমাজবাদী দলের সঙ্গে বিরোধী জোটে তাদের ভূমিকা বজায় রাখা এবং পাশাপাশি একটি স্বাধীন সামাজিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করা।
প্রসঙ্গত, কংগ্রেস এবং সমাজবাদী দল ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন জোটবদ্ধভাবে লড়ার পরিকল্পনা করছে, তবে কংগ্রেসের মধ্যে সময়ে সময়ে সমাজবাদী দলের প্রতি ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
মোনা’র নিয়োগ কংগ্রেসের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা আসন বণ্টন এবং জোট সম্পর্কিত আলোচনায় সাহায্য করবে। তবে, উভয় দলের মধ্যে আসন বণ্টনের চূড়ান্ত রূপ এখনও নির্ধারিত হয়নি।
কংগ্রেসের সামনে আসল চ্যালেঞ্জ হল সংগঠনে করা সামাজিক ভারসাম্যকে রাজনৈতিক সমর্থনে রূপান্তরিত করা।
TAGS: কংগ্রেস, আরাধনা মিশ্র, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, উত্তর প্রদেশ, সমাজবাদী দল













Leave a Reply