
মুম্বাই, মার্চ 30: সিনেমা জগতে অনেক তারকা রয়েছেন, যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের কাজ আজও ভক্তদের হৃদয়ে জীবিত। তাদের মধ্যে একজন হলেন আনন্দ বকশী, যিনি “কিছু তো লোক বলेंगे…” এর মতো অমর গানের রচয়িতা। আজ তার পুণ্যতিথি। হাজার হাজার গানের মাধ্যমে তিনি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছেন।
আনন্দ বকশীর জন্ম ২১ জুলাই ১৯৩০ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে (বর্তমানে পাকিস্তান) হয়। দেশভাগের সময় তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সী ছিলেন। জন্মভূমি হারানোর যন্ত্রণা তিনি সারা জীবন অনুভব করেছেন। অনেক বছর পর তিনি ‘রাওয়ালপিন্ডি’ নামে একটি কবিতা লিখেন, যা তার অনুভূতিগুলিকে প্রকাশ করে।
ফৌজে চাকরি করার পর আনন্দ বকশী মুম্বাই আসেন। এখানে তিনি সংগ্রামের শুরু করেন। গায়ক হওয়ার স্বপ্ন ছিল, কিন্তু ভাগ্য তাকে গীতিকার বানিয়ে দেয়। ১৯৬২ সালে ‘মেহেন্দি লেগি মেরে হাত’ সিনেমা থেকে তার প্রথম বড় সাফল্য আসে। ১৯৬৫ সাল ছিল তার সবচেয়ে স্মরণীয় বছর, যখন ‘যখন যখন ফুল খিলে’, ‘হিমালয়ের কোলে’ এবং ‘চাঁদ সি মহব্বতা’ এর মতো সুপারহিট গান প্রকাশিত হয়। ১৯৬৭ সালে ‘মিলন’ সিনেমার “আমরা তোমার যুগ যুগ ধরে…” গানটি আজও জনপ্রিয়।
আনন্দ বকশীর বিশেষত্ব ছিল দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট ঘটনাগুলিকে গানে রূপান্তরিত করা। একবার ট্রাকের পেছনে লেখা “মের হমসফর” দেখে তিনি “মের হমসফর” গানটি লিখেছিলেন। আবার, একটি ওয়াশবেসিনে হাত ধোওয়ার সময় সুভাষ ঘাইয়ের সিনেমা ‘সৌদাগর’ এর জন্য গান লিখে ফেলেন। ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’ গানে “মার দেয়া যায়, ছেড়ে দেয়া যায়…” লাইনটি রাজা পোরাস এবং আলেকজান্ডারের গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা হয়। ‘আচ্ছা তো আমরা চলে যাই’ গানের পুরো কাহিনীও অত্যন্ত আকর্ষণীয়। লক্ষ্মীকান্ত-প্যায়ারেলালের সঙ্গে যখন গানটি তৈরি হচ্ছিল না, তখন এই আইডিয়াটি আসে।
আনন্দ বকশী বহু প্রজন্মের সঙ্গীতকারদের সঙ্গে কাজ করেছেন, যেমন এস.ডি. বর্মন, আর.ডি. বর্মন, চিত্রগুপ্ত, লক্ষ্মীকান্ত-প্যায়ারালাল, কাল্যাণজি-আনন্দজি, রাজেশ রোশন, অনু মালিক এবং বিজু শাহ। ‘রূপ তেরা মস্তানা’, ‘আদমি মুসাফির হ্যায়’, ‘এক দুজে কে লিয়ে’ এর মতো শতাধিক গান তিনি লিখেছেন। তিনি নিজেও কিছু গান গেয়েছেন, যেমন ‘বালিকা বধূ’ এর “জগত মুসাফির খানা…”।
তার ছেলে রাকেশ বকশী জানান, পিতারূপে তিনি খুবই প্রিয় ছিলেন। রাতে দেরি করে বাড়ি ফিরলেও তিনি সন্তানদের মাথায় হাত বুলিয়ে দেখতেন। খাবারের অপচয় না করার শিক্ষা তিনি সন্তানদের মায়ের ত্যাগের গল্প বলে দিয়েছেন। আনন্দ বকশী ফিল্মফেয়ার পুরস্কারসহ বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। তিনি গানগুলির মাধ্যমে প্রেম, যন্ত্রণা, আনন্দ এবং জীবনের পূর্ণ দর্শন দিয়েছেন।














Leave a Reply