
ওয়াশিংটন, জুন ৩: ইজরায়েল এবং লেবানানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে ওয়াশিংটনে সরাসরি আলোচনা শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগটি এমন সময়ে এসেছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তিনি ইজরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা কমানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা অর্জন করেছেন।
লেবানানের প্রেসিডেন্ট অফিস সোমবার একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে যে হিজবুল্লাহ আমেরিকার প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, যাতে উভয় পক্ষের মধ্যে “পারস্পরিক আক্রমণ বন্ধ” করার কথা বলা হয়েছে।
এই তথ্য লেবাননে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে টেলিফোন আলাপে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আলোচনা চলাকালীন লেবাননের পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ইজরায়েল এবং হিজবুল্লাহ উভয় পক্ষই একে অপরের উপর আক্রমণ বন্ধ করবে। সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, ইজরায়েল বেইরুতের দক্ষিণে হামলা বন্ধ করবে, এবং হিজবুল্লাহ ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আক্রমণ বন্ধ রাখবে। পরবর্তীতে এই যুদ্ধবিরতি ব্যবস্থা পুরো লেবাননে সম্প্রসারিত হতে পারে।
লেবাননের দূতাবাস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মুআওয়াদকে জানিয়েছেন যে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুরও এই প্রস্তাবে সম্মতি রয়েছে।
রাষ্ট্রদূত মুআওয়াদ এই তথ্য প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনকে জানান, এরপর প্রেসিডেন্ট হিজবুল্লাহর নেতৃত্বকে এই ঘটনাক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।
দূতাবাস জানিয়েছে, মঙ্গলবার এবং বুধবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আলোচনায় এই বিষয়ে অগ্রগতির চেষ্টা করা হবে।
এর আগে, লেবাননের সংসদের সভাপতি নাবিহ বেরি আমেরিকান প্রশাসনকে জানান যে হিজবুল্লাহ ইজরায়েলের সঙ্গে তাত্ক্ষণিক এবং পূর্ণ যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুত। আমেরিকান মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, বেরি আশ্বাস দিয়েছেন যে যদি সমঝোতা হয়, তবে তার বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই প্রস্তাব সফল হয়, তবে ইজরায়েল-লেবানন সীমান্তে দীর্ঘকাল ধরে চলা উত্তেজনা কমে আসবে এবং পুরো অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।














Leave a Reply