
ওয়াশিংটন, মার্চ ১৮: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন। তারা কিউবার অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে “সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ” বলে উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
ট্রাম্প, আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ওভাল অফিসে বলেন, “আমরা কিউবার পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছি এবং শীঘ্রই কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। কিউবা বর্তমানে খুব খারাপ অবস্থায় রয়েছে। আমরা খুব শীঘ্রই কিছু করতে যাচ্ছি।”
রুবিও কিউবার বর্তমান পরিস্থিতিকে গভীর কাঠামোগত সংকটের ফল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, কিউবার অর্থনীতি কার্যকর নয় এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থা এটি উন্নত করতে অক্ষম। তার মতে, “তাদের বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, কিউবার সরকার সম্প্রতি যে পদক্ষেপগুলি ঘোষণা করেছে, তা সংকট সমাধানের জন্য যথেষ্ট নয়। রুবিও অভিযোগ করেন, কিউবার অর্থনীতি দশক ধরে বিদেশী সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল, বিশেষ করে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পরে ভেনেজুয়েলার ওপর, কিন্তু এখন সেই সহায়তা প্রায় শেষ হয়ে গেছে, যা পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে।
রুবিও কিউবার নেতৃত্বের ওপর প্রশ্ন তুলে বলেন, বর্তমান শাসকরা এই সংকটের সমাধান জানেন না, তাই নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন।
আমেরিকার নীতির বিষয়ে রুবিও স্পষ্ট করেন যে, কিউবার ওপর আরোপিত বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা (এম্বার্গো) তখনই উঠবে, যখন সেখানে রাজনৈতিক পরিবর্তন হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে কিউবায় বিদ্যুৎ গ্রিড ভেঙে পড়ায় দেশটির বড় অংশ অন্ধকারে ডুবে গেছে, যা সেখানে বিদ্যুৎ এবং অর্থনৈতিক সংকটের প্রকৃতির গভীরতা প্রকাশ করেছে।
আমেরিকার বিদেশ দপ্তরের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা এই পরিস্থিতিকে কিউবার শাসন ব্যবস্থার ব্যর্থতার সাথে যুক্ত করেছেন। তিনি বলেন, বারবার বিদ্যুৎ বিপর্যয় এই সংকেত দেয় যে সরকার নাগরিকদের মৌলিক সেবা প্রদান করতে অক্ষম।
আমেরিকার ধারণা, এই সংকট কেবল প্রযুক্তিগত বা অবকাঠামোগত সমস্যার ফল নয়, বরং কিউবার বিস্তৃত অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক সংকটের অংশ।









Leave a Reply