
নতুন দিল্লি, জুন ২২: বর্ষাকালে সমুদ্রের ঝড়ের ঝুঁকি ভারতীয় উপকূলে সবসময় বিদ্যমান থাকে, যা প্রাণ ও সম্পদের ক্ষতির আশঙ্কা সৃষ্টি করে। তাছাড়া, উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্র থেকে ভেসে আসা মলব ও বস্তুর বিষয়টিও উদ্বেগের কারণ। এর মধ্যে রয়েছে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া জাহাজ, নৌকা, দুর্ঘটনাগ্রস্ত জাহাজ থেকে পড়ে যাওয়া কনটেইনার এবং ডুবে যাওয়া জাহাজের মলব।
প্রতিবছরের মতো, এই বছরও উপকূলীয় অঞ্চলে এবং সমুদ্রে ভারতীয় তटरক্ষক বাহিনী প্রথম প্রতিক্রিয়া সংস্থা হিসেবে প্রস্তুত রয়েছে। এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। ভারতীয় তटरক্ষক তাদের উপকূলীয় ইউনিটকে সময়ে সময়ে নির্দেশনা প্রদান করে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের প্রেক্ষিতে সমুদ্রে থাকা ফেলে দেওয়া জাহাজ/নৌকা এবং ডুবে যাওয়া জাহাজের মলবের উপর বিশেষ নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় তটারক্ষক বাহিনীর মুখপাত্র কমান্ডেন্ট অমিত উনিয়াল জানিয়েছেন, তাদের ইউনিটকে দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি সমুদ্রের ঘটনাগুলোর সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে, ফলে নজরদারি ছাড়া জাহাজ বা নৌকার ভারতীয় সমুদ্র অঞ্চলের দিকে ভেসে আসার ঝুঁকি বেড়েছে। তাই এই ঝুঁকিগুলো কমানোর জন্য নিয়মিত নজরদারি এবং সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
নির্দেশনাগুলির মধ্যে বলা হয়েছে, একীভূত সমুদ্র, বায়ু এবং ইলেকট্রনিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। উপকূলে জাহাজের আটকে যাওয়ার মতো ঘটনাগুলো প্রতিরোধে ভেসে যাওয়া জাহাজ বা বস্তুর দ্রুত রিপোর্টিং, ট্র্যাকিং এবং ঝুঁকির মূল্যায়ন করতে হবে।
এছাড়াও, নৌযান সতর্কতা এবং সংশ্লিষ্ট নাবিক তথ্যের (এনটিএম) নিয়মিত নজরদারি করতে হবে যাতে ভারতীয় সমুদ্র অঞ্চলে প্রভাব ফেলার জন্য যে কোনো সমুদ্রের ঘটনা সময়মতো চিহ্নিত করা যায়। পাশাপাশি, সমুদ্র উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র (এমআরসিসি) এর সাথে সময়ে সময়ে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে যাতে তাদের অধিক্ষেত্রে কোনো ফেলে দেওয়া জাহাজ বা নৌকার উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়।
তিনি আরও বলেন, সমুদ্রে তটারক্ষক বাহিনীর ‘চোখ ও কান’ হিসেবে পরিচিত মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের তথ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, কারণ তারা এসব জাহাজ বা ভেসে যাওয়া বস্তুর সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য দিতে সক্ষম।
কোনো চক্রবাতের প্রভাব বা তার পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য সকল তটারক্ষক স্টেশনকে সক্রিয় করা হয়েছে। তটারক্ষক বাহিনী তাদের নির্দেশনায় সকল অফশোর পেট্রোলিং জাহাজকে অনুসন্ধান ও উদ্ধার, আগুন নির্বাপন, দূষণ প্রতিক্রিয়া এবং নাবিক ও মৎস্যজীবীদের সহায়তার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে।
এছাড়াও, আবহাওয়া দপ্তরের দ্বারা প্রকাশিত আবহাওয়ার তথ্যের নিয়মিত নজরদারি করতে হবে। জীবনরক্ষাকারী যন্ত্রপাতি যেমন জেমিনি বোট, লাইফবোট, লাইফবয় এবং লাইফজ্যাকেটের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।












Leave a Reply