
রাঁচি, জুলাই 29: ঝারখণ্ডে নকশালবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনী এই বছরের সবচেয়ে বড় সাফল্য অর্জন করেছে। ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী) সংগঠনের পলিটব্যুরো সদস্য এবং এক কোটি টাকার পুরস্কারপ্রাপ্ত মাওবাদী নেতা মিসির বেসরাকে তার দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এটিকে রাজ্যে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করছে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ঝারখণ্ড পুলিশ, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ) এবং কোবরা ব্যাটালিয়ন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে ধানবাদ ও গিরিডি জেলার সীমান্ত এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে মিসির বেসরাকে আটক করে। তার সাথে ১৫ লাখ টাকার পুরস্কারপ্রাপ্ত মাওবাদী সংগঠনের আঞ্চলিক কমিটির সদস্য মেহনত উরফে মোছু উরফে বিভীষণ মুর্মু এবং গৌরব উরফে সৌরভকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানের সময় আরও দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে, যাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
মিসির বেসরার গ্রেফতারের আগে মঙ্গলবার রাঁচিতে ১৬ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করে। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে মিসির বেসরার ঘনিষ্ঠ রক্ষক দেবান মুর্মু উরফে শনিচরও ছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি তার কাছ থেকে মিসির বেসরার কার্যকলাপ এবং সম্ভাব্য অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে, যার ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মিসির বেসরা উরফে সুনির্মল, উরফে সাগর, গিরিডি জেলার পিরটান্ড এলাকার বাসিন্দা। তিনি প্রায় চার দশক আগে মাওবাদী সংগঠনের সাথে যুক্ত হন এবং পরে সংগঠনের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পলিটব্যুরোর সদস্য হন।
ঝারখণ্ড, বিহার, ওড়িশা এবং ছত্তীসগড়ে তার বিরুদ্ধে হত্যা, নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা, আইইডি বিস্ফোরণ, লেভি আদায় এবং রংদারি সহ ১৫০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। মিসির বেসরাকে ২০০৭ সালে খুঁটি পুলিশের দ্বারা গ্রেফতার করা হয়েছিল, কিন্তু ২০০৯ সালে বিহারের লখিসারায় আদালত চত্বরে মাওবাদীদের হামলার সময় তিনি পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি প্রায় দুই দশক ধরে নিরাপত্তা সংস্থার সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত তালিকায় ছিলেন। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, মিসির বেসরার গ্রেফতারির ফলে ঝারখণ্ডে মাওবাদী সংগঠনের নেতৃত্বে বড় ধাক্কা লেগেছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ধারাবাহিক সংঘর্ষ, গ্রেফতার এবং আত্মসমর্পণের ঘটনা সংগঠনকে ইতিমধ্যেই দুর্বল করে দিয়েছে। এখন শীর্ষ নেতৃত্বের গ্রেফতার হওয়ার ফলে বাকি নেটওয়ার্কেও প্রভাব পড়ার আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্যের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি মিসির বেসরা ও তার সহযোগীদের গোপন স্থানে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। কর্মকর্তাদের আশা, এই জিজ্ঞাসাবাদ থেকে মাওবাদী সংগঠনের সক্রিয় নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের মজুদ, আর্থিক উৎস এবং সহযোগীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে গ্রেফতারির বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত অফিসিয়াল বিবৃতি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।













Leave a Reply