
জামশেদপুর, মার্চ ২৫: ঝারখণ্ডের পূর্বী সিংভূম জেলার বহারাগোড়ায় স্বর্ণরেখা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রায় 227 কেজির বোমা সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করেছে ভারতীয় সেনা। ধারণা করা হচ্ছে, এই বোমাটি যুদ্ধকালীন সময়ে এখানে পড়েছিল এবং নদীর বালির নিচে চাপা পড়ে ছিল।
পাঁচ-ছয় দিন আগে বালু খননের সময় এই শক্তিশালী বোমাটি পাওয়া যায়, যার ফলে প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি উচ্চ সতর্কতায় চলে আসে। বোমার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর প্রশাসন আরও সতর্ক হয়।
গুরুতর পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভারতীয় সেনার বিশেষজ্ঞ দলকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। লেফটেন্যান্ট কর্নেল ধর্মেন্দ্র সিং এবং ক্যাপ্টেন আয়ুষ কুমার সিংয়ের নেতৃত্বে দলটি বোমার গঠন, অবস্থান এবং আশেপাশের ভূগোল বিশ্লেষণ করে।
অপারেশনের অংশ হিসেবে বোমাটি নিরাপদভাবে নিষ্ক্রিয় করার জন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। প্রথমে জেসিবির সাহায্যে প্রায় 10 ফুট গভীর গর্ত তৈরি করা হয় এবং সুরক্ষার জন্য শত শত বালির বোরি দিয়ে ঘেরাও করা হয়। পুরো এলাকা প্রায় দেড় কিলোমিটার ব্যাসার্ধে সিল করে দেওয়া হয় এবং আশেপাশের বাড়ি ও ক্ষেত খালি করে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার সকাল থেকে ঘটনাস্থলটি একটি সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত হয়। পুলিশ, ঝারখণ্ড জাগুয়ার, অগ্নি নির্বাপক বিভাগ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের টিমগুলি অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রস্তুত ছিল। নদীর দিকে যাওয়া সমস্ত রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে অপারেশনের সময় কোনো সাধারণ নাগরিক সেখানে না যেতে পারে।
সেনার বোমা স্কোয়াড টিম নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। অপারেশন সম্পূর্ণ সফল হয় এবং কোনো ধরনের জনহানি ঘটেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীতে চাপা পড়া পুরনো বোমাগুলি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে এবং সামান্য ভুল বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এই সময়ে পাশের গ্রামের একটি অতিরিক্ত বোমাও উদ্ধার করা হয়, যা কিছু গ্রামবাসী নদী থেকে নিয়ে এসেছিল। সেনা সেই বোমাটিও নিষ্ক্রিয় করেছে।
গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে স্বর্ণরেখা নদীর তীরে বসবাসকারী গ্রামগুলিতে আতঙ্কের পরিবেশ ছিল। লোকজন নদীর দিকে যেতে ভয় পাচ্ছিল, যার ফলে দৈনন্দিন জীবন এবং পশুপালন প্রভাবিত হচ্ছিল। অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর গ্রামবাসীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে।
–
এসএনসি/এসকে














Leave a Reply