Bengal Daily Kiran

Latest Bengal News – Breaking News Today, Live News, World

ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের শক্তিশালীকরণ ও আইএমইসির গুরুত্ব

ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের শক্তিশালীকরণ ও আইএমইসির গুরুত্ব

নয়াদিল্লি, মার্চ ২৫: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক ইজরায়েল সফর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে। ‘দ্য জেরুজালেম স্ট্র্যাটেজিক ট্রিবিউন’-এ প্রকাশিত একটি নিবন্ধ অনুযায়ী, এটি একটি বৃহৎ কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক খেলার অংশ।

নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মোদির কনেসেট (ইজরায়েলের সংসদ) ভাষণে ভারতের বিস্তৃত কৌশলগত চিন্তা এবং ইজরায়েলের ভূমিকা স্পষ্ট হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভারত একটি আঞ্চলিক কাঠামো গড়ে তুলতে চায়, যা পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে ব্যবসা এবং সংযোগ বৃদ্ধি করবে, যেখানে ইজরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।

এই প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ কারণ ভারত তার কৌশলগত স্বাধীনতা বাড়াতে চাচ্ছে এবং চীনের বাড়তে থাকা প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। ভারত এখন পুরনো ‘গুটনিরপেক্ষ’ নীতির বাইরে গিয়ে এমন দেশগুলোর সাথে অংশীদারিত্ব করছে, যাদের নীতিগুলি স্থিতিশীল এবং নির্ভরযোগ্য।

ভারতের এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর (আইএমইসি) রয়েছে। এটি শুধুমাত্র একটি বাণিজ্যিক পথ নয়, বরং চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার উদ্দেশ্য এশিয়া এবং ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য ও শক্তির উপর চীনের প্রভাব কমানো।

গত কয়েক বছরে চীন পরিবহন, শক্তি এবং টেলিকম সেক্টরে বড় বিনিয়োগ করে অনেক দেশে তার শক্তিশালী প্রভাব তৈরি করেছে, যার ফলে অনেক দেশের অর্থনীতি চীনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে আইএমইসি এই অবস্থাকে ভারসাম্যপূর্ণ করার চেষ্টা করছে। এটি একটি এমন মডেল, যেখানে স্বচ্ছতা, অংশীদারিত্ব এবং পারস্পরিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, একতরফা নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে।

ভারতের জন্য এই করিডোরের সফলতার জন্য ইজরায়েল এবং গ্রীসের মতো দেশগুলি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা স্থিতিশীল ব্যবস্থা এবং উন্নত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রদান করে।

তবে, চীনের অবস্থান এখনও বেশ শক্তিশালী। বিআরআই-এর অধীনে ইতিমধ্যে অনেক বড় প্রকল্প এবং নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে, যেমন চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) এবং গওয়াদার বন্দর। এছাড়াও, চীনের ইরান এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে শক্তিশালী সম্পর্কও তার শক্তি বাড়ায়।

এই কারণে আইএমইসির সামনে চ্যালেঞ্জ শুধুমাত্র একটি বিকল্প দেওয়ার নয়, বরং নিজেকে একটি নির্ভরযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী মডেল হিসেবে প্রমাণ করারও।

নিবন্ধ অনুযায়ী, ভারত এবং তার অংশীদারদের জন্য এই করিডোরের সফলতা নির্ভর করবে এটি একটি নিরাপদ এবং স্বচ্ছ সিস্টেম তৈরি করতে পারবে কিনা, যা কোনও এক দেশের উপর নির্ভরশীল না হয়ে সকল দেশের স্বার্থকে ভারসাম্যপূর্ণভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

ডিবিপি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *