
মুম্বাই, মার্চ ১০: ভারতীয় সিনেমা আবারও বৈশ্বিক স্তরে বড় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। খ্যাতনামা চলচ্চিত্র পরিচালক এস. এস. রাজামৌলির বহুপ্রতীক্ষিত সিনেমা ‘বারাণসী’ নিয়ে একটি বড় কৌশলগত অংশীদারিত্বের ঘোষণা করা হয়েছে। এই চুক্তির অধীনে স্কাই ব্লু সিনেমাটিক্সকে সিনেমাটির জন্য বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ড ইন্টিগ্রেশন-এর এক্সক্লুসিভ অধিকার দেওয়া হয়েছে।
এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব বড় বাজেটের সিনেমায় ব্র্যান্ডগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করার পদ্ধতি পরিবর্তন করতে পারে। সাধারণত সিনেমায় ব্র্যান্ডগুলিকে শুধুমাত্র পণ্য স্থাপন হিসেবে দেখা হয়, কিন্তু এই প্রকল্পে তাদের গল্পের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিচালক এস. এস. রাজামৌলি আজ ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে দূরদর্শী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে গণ্য হন। তিনি তার সিনেমার মাধ্যমে ভারতীয় সিনেমার পরিচয় বিশ্বজুড়ে শক্তিশালী করেছেন। তার সিনেমাগুলির বিশেষত্ব হল তারা মহৎ দৃশ্য এবং শক্তিশালী আবেগময় গল্পকে একত্রিত করে। তাদের সিনেমাকে একটি সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখা হয়।
এখন রাজামৌলি তার নতুন সিনেমা ‘বারাণসী’ নিয়ে আরেকটি বড় পরীক্ষা করতে যাচ্ছেন। চলচ্চিত্র শিল্পের অনেক বিশেষজ্ঞ এটিকে তার সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প হিসেবে মনে করছেন। গ্লোবাল দর্শকদের জন্য সিনেমাটি প্রযুক্তিগত এবং ন্যারেটিভ স্কেলে ডিজাইন করা হচ্ছে।
সিনেমার গল্পটি একটি বড় আকারে প্রস্তুত করা হচ্ছে। ‘বারাণসী’ একটি উচ্চ-অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার সিনেমা, যেখানে প্রাচীন ভারতীয় কাহিনীগুলি এবং আধুনিক সময়ের গল্পকে সংযুক্ত করা হবে। সিনেমার গল্প বিভিন্ন দেশ এবং স্থানে ঘুরে বেড়াবে, তাই এটি একটি গ্লোবাল সিনেমাটিক স্পেকটাকল হিসেবে পরিচিত হচ্ছে।
এই সিনেমাটি অনেক নতুন রেকর্ড গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ‘বারাণসী’ ভারতীয় সিনেমার মধ্যে অন্যতম সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমা হতে পারে। এটি প্রথম ভারতীয় সিনেমা হবে যা ১.৪৩:১ আইম্যাক্স ফরম্যাটে শুট করা হবে। এই ফরম্যাট দর্শকদের একটি বিশাল এবং বাস্তবিক সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা দেয়, যা সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতাকে আরও প্রভাবশালী করে তোলে।
স্টার কাস্টও সিনেমাটিকে বিশেষ করে তোলে। এতে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার সুপারস্টার মহেশ বাবু প্রধান ভূমিকায় থাকবেন। তার সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। এছাড়াও, প্রতিভাবান অভিনেতা পৃথ্বীরাজ সুকুমারনও সিনেমার অংশ হবেন।
সিনেমার সঙ্গীতও বিশেষভাবে তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মূল সঙ্গীত অস্কার বিজয়ী সঙ্গীতকার এম.এম. কীরাবানী তৈরি করবেন।
‘বারাণসী’ ২০২৭ সালে বিশ্বব্যাপী সিনেমা হলে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ১২০টিরও বেশি দেশে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে, যা এটিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক প্রভাব ফেলার ভারতীয় সিনেমাগুলির মধ্যে একটি করে তুলবে।
এই পুরো প্রকল্পে স্কাই ব্লু সিনেমাটিক্সের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোম্পানিকে সিনেমার জন্য বিশ্বজুড়ে ব্র্যান্ডগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্ব করার এবং তাদের সিনেমার গল্পের সঙ্গে যুক্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা প্রচলিত পণ্য স্থাপন থেকে এগিয়ে গিয়ে ‘অথেন্টিক ন্যারেটিভ উইভস’ ব্যবহার করবে। ব্র্যান্ডগুলিকে এইভাবে গল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে যেন তারা সিনেমার বিশ্বের স্বাভাবিক অংশ মনে হয়।
এই অংশীদারিত্ব সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে পরিচালক এস. এস. রাজামৌলি বলেছেন, “বারাণসী একটি বড় আকারের সিনেমা এবং এতে হওয়া প্রতিটি অংশীদারিত্ব সিনেমাটিকে আরও দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। আমি আশা করি স্কাই ব্লু সিনেমাটিক্সের সঙ্গে মিলিত হয়ে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলিকে সিনেমার গল্পে সম্মানজনক এবং স্বাভাবিকভাবে যুক্ত করা হবে।”
এদিকে, স্কাই ব্লু গ্রুপের গ্রুপ চেয়ারম্যান মণিকন্দমূর্তি ভেলায়ুধন বলেছেন, “এত বড় সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হওয়া আমার জন্য সম্মানের বিষয়। ‘বারাণসী’ একটি বৈশ্বিক সিনেমাটিক আন্দোলন, এবং আমাদের কোম্পানিকে এই প্রকল্পের জন্য গ্লোবাল ব্র্যান্ড পার্টনারশিপকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পাওয়ায় গর্বিত।”













Leave a Reply