Bengal Daily Kiran

Latest Bengal News – Breaking News Today, Live News, World

आजादी के जश्न में मातम! गढ़ में मौत की खदान ने निगल लिए दो मासूम, स्कूल के खेल मैदान से उठे सवाल

आजादी के जश्न में मातम! गढ़ में मौत की खदान ने निगल लिए दो मासूम, स्कूल के खेल मैदान से उठे सवाल

গড়, আগস্ট ১৬:

স্বাধীনতার উৎসবে শোক! খনিতে মৃত্যু, স্কুলের খেলার মাঠে উঠেছে প্রশ্ন

স্বাধীনতা দিবসের দিন… স্কুলগুলোতে তিরঙ্গা উড়ছিল, শিশুরা দেশপ্রেমের গান গাইছিল এবং চারপাশে উৎসাহের পরিবেশ ছিল। কিন্তু গড় থানার এলাকায় একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে, যা পুরো অঞ্চলকে হতবাক করেছে। স্কুলের খেলার মাঠের কাছে একটি গভীর খনিতে ডুবে দুই শিশু ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। যাদের হাতে তিরঙ্গা থাকার কথা ছিল, তারা আজ নিজেদের প্রিয়জনের শেষকৃত্যের প্রস্তুতিতে বাধ্য হয়েছে।

এটি শুধুমাত্র একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং প্রশাসনিক অবহেলা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অবৈধ মাটি খননের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপনকারী একটি ঘটনা। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, বিদ্যালয় এবং খেলার মাঠের কাছে এত গভীর খনি কিভাবে তৈরি হলো? সেখানে পানি জমার পরেও কেন নিরাপদ করা হয়নি? কি কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধি কখনো এই বিপজ্জনক স্থানের খোঁজ নিয়েছেন?

তথ্য অনুযায়ী, মাউগঞ্জের খর্রা গ্রামের সুভাষ সোনি (১৩) এবং মাউগঞ্জের তেডাতাল গ্রামের শিব পাঠক, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গড় এসেছিলেন। সুভাষ গড়ের বাল ভারতী স্কুলে পড়ত, আর শিব পাঠক পাটঞ্জলি পাবলিক স্কুলের ছাত্র ছিল। অনুষ্ঠান শেষে তারা শাসকীয় বালক উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের কাছে পৌঁছায়। এ সময় মাঠের পাশে থাকা গভীর খনিতে তারা ডুবে যায়।

কিছুক্ষণ পরই চিৎকার শুরু হয়। গ্রামবাসীরা ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে ভিড় জমায়। গড় পুলিশকে খবর দেওয়া হয় এবং শিশুদের উদ্ধার করর জন্য অনুসন্ধান অভিযান শুরু হয়।

স্থানীয় লোকজন এবং পুলিশের সহায়তায় দুই শিশুকে পানি থেকে উদ্ধার করা হয়। গুরুতর অবস্থায় তাদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তাদের রিভার সঞ্জয় গান্ধী স্মৃতি হাসপাতালে রেফার করা হয়, কিন্তু চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

দুই শিশুর মৃত্যুর খবর তাদের গ্রাম এবং পরিবারের কাছে পৌঁছাতেই সেখানে শোকের ছায়া নেমে আসে। যেদিন পরিবার তাদের সন্তানদের সঙ্গে স্বাধীনতা দিবসের আনন্দ উদযাপনের আশা করছিল, সেদিনই তাদের ঘরে শোকের আবহ তৈরি হলো।

এই দুর্ঘটনার পর খনির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই গভীর খনি মাটি খননের কারণে তৈরি হয়েছে এবং বৃষ্টির পর এতে পানি জমে গেছে।

যদি এই স্থান এত গভীর এবং বিপজ্জনক হয়, তাহলে এর চারপাশে ব্যারিকেড, সীমানা বা সতর্কতা বোর্ড কেন লাগানো হয়নি?

যদি এটি বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের এত কাছে হয়, তাহলে শিশুদের নিরাপত্তার জন্য দায়িত্বশীল বিভাগগুলো কেন আগে এটি দেখেনি? এবং যদি এখানে মাটি খনন করা হয়ে থাকে, তাহলে খননের অনুমতি কে দিয়েছিল, কতটুকু জমিতে খনন হয়েছে এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলা হয়েছে কিনা, তার তদন্ত কে করবে?

গড়ের এই ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দুর্ঘটনার পর এখন প্রয়োজন শুধু সমবেদনা জানানো নয়, বরং জবাবদিহি দাবি করা।

জনপ্রতিনিধিদের প্রশাসনের কাছে জানতে হবে যে বিদ্যালয় এবং জনসাধারণের খেলার মাঠের কাছে এমন বিপজ্জনক খনি কিভাবে তৈরি হলো? দায়িত্বশীল বিভাগের কি পরিদর্শন ছিল? নিরাপত্তার কি ব্যবস্থা ছিল? এবং যদি নিয়ম ভঙ্গ হয়ে থাকে, তাহলে এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা কেন নেওয়া হয়নি? দুই শিশুর মৃত্যুর পর যদি দায়িত্বশীলদের ঘুম না ভাঙে, তাহলে আর কখন ভাঙবে?

এই ঘটনা শুধু দুই পরিবারের দুঃখ নয়। এটি পুরো অঞ্চলের জন্য একটি সতর্কবার্তা। গড় এবং আশেপাশে যদি এমন অন্যান্য গভীর খনি, গর্ত বা জলাবদ্ধ স্থান থাকে, তাহলে তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করা উচিত।

বিদ্যালয়, আঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, খেলার মাঠ এবং জনবসতির আশেপাশে থাকা বিপজ্জনক গর্ত এবং খনিগুলোকে নিরাপদ করতে প্রশাসনকে বিশেষ অভিযান চালাতে হবে।

আজ দুই পরিবারের চিরাগ নিভে গেল। প্রশ্ন হলো, প্রশাসন কি এখন সচেতন হবে? জনপ্রতিনিধিরা কি আওয়াজ তুলবেন? দায়িত্বশীলদের জবাবদিহি হবে কি? নাকি প্রতিবারের মতো দুর্ঘটনার পর কিছুদিন আলোচনা হবে এবং বিষয়টি সরকারি ফাইলের মধ্যে চাপা পড়ে যাবে?

গড়ের এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ব্যবস্থার সামনে একটি আয়না ধরে দিয়েছে। এখন প্রয়োজন প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের এই আয়নায় নিজেদের মুখ দেখতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে দুই শিশুর মৃত্যু শেষ দুর্ঘটনা হবে—পরবর্তী ঘটনার অপেক্ষা না করে।

TAGS: গড়, শিশু মৃত্যু, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক অবহেলা, স্বাধীনতা দিবস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *