Bengal Daily Kiran

Latest Bengal News – Breaking News Today, Live News, World

শেয়ার বাজারে ইকুইটি এবং প্রেফারেন্স শেয়ারের মধ্যে পার্থক্য

শেয়ার বাজারে ইকুইটি এবং প্রেফারেন্স শেয়ারের মধ্যে পার্থক্য

মুম্বাই, ফেব্রুয়ারি ১১: শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার সময় বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী শুধুমাত্র রিটার্নের দিকে নজর দেন। তবে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি কোন ধরনের শেয়ারে টাকা বিনিয়োগ করছেন। বিশেষ করে ইকুইটি শেয়ার এবং প্রেফারেন্স শেয়ারের মধ্যে পার্থক্য জানা প্রতিটি বিনিয়োগকারীর জন্য অপরিহার্য। উভয়ই কোম্পানিতে অংশীদারিত্ব দেয়, কিন্তু তাদের অধিকার, ঝুঁকি এবং মুনাফার পদ্ধতি ভিন্ন।

ইকুইটি শেয়ার, যাকে সাধারণ শেয়ারও বলা হয়, একটি কোম্পানির বাস্তব মালিকানা অধিকার দেয়। যখন একজন বিনিয়োগকারী ইকুইটি শেয়ার ক্রয় করেন, তখন তিনি কোম্পানির আংশিক মালিক হয়ে যান। তাকে কোম্পানির সাধারণ সভায় ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হয় এবং বড় সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণের সুযোগও থাকে। কোম্পানির মুনাফা হলে ইকুইটি শেয়ারধারকদের ডিভিডেন্ড দেওয়া হয়, তবে এটি নিশ্চিত নয়।

ডিভিডেন্ড কোম্পানির পারফরম্যান্স এবং বোর্ডের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে। কোম্পানির সমস্ত খরচ এবং দেনা পরিশোধের পর যে লাভ বাকি থাকে, তার মধ্যে থেকে ইকুইটি বিনিয়োগকারীদের অংশ দেওয়া হয়। এ কারণেই ইকুইটিতে রিটার্নের সম্ভাবনা বেশি, তবে ঝুঁকিও বেশি।

অন্যদিকে, প্রেফারেন্স শেয়ার বিনিয়োগকারীদের অগ্রাধিকার অধিকার দেয়। এর মানে হল, যখন কোম্পানি ডিভিডেন্ড বিতরণ করে, তখন প্রথমে প্রেফারেন্স শেয়ারধারকদের অর্থ প্রদান করা হয়। এছাড়াও, যদি কোম্পানি বন্ধ হয় এবং তার সম্পত্তি বিক্রি হয়, তবে তাদের ইকুইটি বিনিয়োগকারীদের আগে অর্থ প্রদান করা হয়। সাধারণত প্রেফারেন্স শেয়ারের উপর ডিভিডেন্ডের হার নির্ধারিত হয়, যা বিনিয়োগকারীদের তুলনামূলক স্থির আয় দেয়। তবে, এই শেয়ারধারকদের সাধারণ পরিস্থিতিতে ভোট দেওয়ার অধিকার থাকে না।

দুইটির মধ্যে মূল পার্থক্য হল অধিকার এবং ঝুঁকির। ইকুইটি বিনিয়োগকারীরা বেশি ঝুঁকি নেন, তবে দীর্ঘমেয়াদে ভালো রিটার্ন পেতে পারেন। প্রেফারেন্স শেয়ার তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং নির্দিষ্ট ডিভিডেন্ড দেয়, তবে এগুলোর বৃদ্ধির সম্ভাবনা সীমিত।

সুতরাং, যদি কোনো বিনিয়োগকারী দীর্ঘমেয়াদে বড় টাকা উপার্জন করতে চান এবং বাজারের ওঠানামা সহ্য করতে পারেন, তবে ইকুইটি শেয়ার ভালো বিকল্প হতে পারে। অন্যদিকে, যারা স্থির আয় এবং কম ঝুঁকি পছন্দ করেন, তাদের জন্য প্রেফারেন্স শেয়ার উপযুক্ত হতে পারে। সঠিক নির্বাচন বিনিয়োগকারীর আর্থিক লক্ষ্য এবং ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *