
নতুন দিল্লি, এপ্রিল ২১: নবজাতক শিশুর জন্য মায়ের দুধ একটি অমূল্য পুষ্টির উৎস। জন্মের পরপরই এটি শিশুকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে, যা তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে থাকা অ্যান্টিবডি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং বিভিন্ন সংক্রমণ ও রোগ থেকে রক্ষা করে।
জন্মের পর যে ঘন হলুদ দুধ বের হয়, তাকে কোলোস্ট্রাম বলা হয়। এটি কখনোই ফেলা উচিত নয়, কারণ এটি শিশুর প্রথম ভ্যাকসিনের মতো কাজ করে। এতে ভিটামিন এ এবং ইমিউনিটি বাড়ানোর উপাদান প্রচুর পরিমাণে থাকে। তাই চেষ্টা করুন, শিশুকে জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে স্তনপান শুরু করানো।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুকে প্রথম ছয় মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের দুধ দেওয়া উচিত। অনেকেই মনে করেন, গরমে শিশুকে পানি দেওয়া উচিত, কিন্তু এটি একদম প্রয়োজনীয় নয়। মায়ের দুধেই যথেষ্ট পানি থাকে, যা শিশুর তৃষ্ণা মেটায় এবং ক্ষুধা নিবারণ করে।
শিশুর যখনই ক্ষুধা লাগে, তাকে স্তনপান করানো উচিত। নির্দিষ্ট সময় তৈরি করার প্রয়োজন নেই। এটিকে ডিমান্ড ফিডিং বলা হয়, যা শিশুর জন্য সবচেয়ে ভালো। এতে শিশুর পেট ভালোভাবে ভরে যায় এবং দুধের উৎপাদনও সঠিক থাকে।
স্তনপান করার সময় শিশুর সঠিক ধরন (অ্যাটাচমেন্ট) খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি শিশু সঠিকভাবে স্তন না ধরে, তবে সে পুরো দুধ পায় না এবং মায়েরও ব্যথা বা অসুবিধা হতে পারে। তাই শুরুতে কিছুটা মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন, প্রয়োজনে কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
জন্মের পর শিশুকে কখনোই মধু, ঘুঁটি বা অন্য কোনো প্রাক-ল্যাকটিয়াল খাবার দেওয়া উচিত নয়। এগুলো পরিষ্কার নয় এবং শিশুকে সংক্রমণ বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যায় ফেলতে পারে।
মায়ের জন্যও স্তনপান উপকারী। এটি শরীরকে দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে এবং গর্ভাশয়কে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে। এছাড়াও, এটি স্বাভাবিকভাবে কিছু সময়ের জন্য পরবর্তী গর্ভাবস্থা বিলম্বিত করতে সাহায্য করে।
–
পিআইএম/ভিসি














Leave a Reply