
নতুন দিল্লি, মার্চ ১৬: আজকের অনিয়মিত জীবনযাত্রায় স্বাস্থ্যকে অবহেলা করা সাধারণ। এর ফলে শরীর বিভিন্ন রোগের শিকার হতে পারে। এমন একটি সাধারণ কিন্তু গুরুতর শারীরিক সমস্যা হলো উচ্চ রক্তচাপ।
জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের (এনএইচএম) মতে, উচ্চ রক্তচাপ শারীরিক এবং মানসিক সমস্যার প্রধান কারণ। এটি “নীরব হত্যাকারী” হিসেবে পরিচিত, কারণ বেশিরভাগ মানুষ এর লক্ষণ বুঝতে পারেন না। তবে এটি নিয়ন্ত্রণহীন হলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি ব্যর্থতা এবং অন্যান্য গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
এনএইচএম-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, সময়মতো পরীক্ষা এবং সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে সহজেই এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। উচ্চ রক্তচাপের অবহেলা বিপজ্জনক, কারণ এটি ধমনীর ক্ষতি করে, যা হৃদরোগ, মস্তিষ্কের স্ট্রোক এবং কিডনির সমস্যা বাড়াতে পারে।
এনএইচএম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু সহজ এবং কার্যকরী উপায়ও সুপারিশ করে:
১. সময়মতো ওষুধ নিন: ওষুধ কখনোই বাদ দেবেন না। ডাক্তার দ্বারা নির্ধারিত ডোজ এবং সময় মেনে চলুন। শুরুতে আমলোডিপাইন জাতীয় ওষুধ সাধারণ। ওষুধের সাথে জীবনযাত্রায় পরিবর্তনও জরুরি।
২. নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন: বাড়িতে বা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়মিত পরীক্ষা করান। সকালে এবং সন্ধ্যায় মাপুন। এতে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা যায় এবং ডাক্তারকে দ্রুত তথ্য দেওয়া যায়।
৩. বেশি নুন খাবেন না: প্রতিদিন ৫ গ্রাম (এক চামচ) থেকে কম নুন রাখুন। প্যাকেজড খাবার, আচার, চিপস এবং বাইরের খাবার কম খান। নুন কমালে রক্তচাপ কমতে পারে।
৪. পর্যাপ্ত পানি পান করুন: দিনে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। ডিহাইড্রেশন রক্তচাপকে প্রভাবিত করে। পানি শরীর থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করতে সাহায্য করে।
৫. নিয়মিত ব্যায়াম করুন: প্রতিদিন ৩০-৪৫ মিনিট brisk walk, সাইক্লিং, যোগ বা হালকা ব্যায়াম করুন। এতে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং রক্তচাপ কমতে পারে।
অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও মাথায় রাখতে হবে যেমন ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান ত্যাগ, মদ্যপান কমানো, ফল ও সবজি বেশি খাওয়া এবং মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান-যোগ করা। নিয়মিত পরীক্ষা এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন করে উচ্চ রক্তচাপ সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। যদি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণহীন হয় তবে দ্রুত ডাক্তারকে যোগাযোগ করুন।














Leave a Reply